কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ৯ মাসের গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ ওঠেছে স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রবিবার (৭ডিসেম্বর) স্বামী বাদল মিয়া বাদি হয়ে স্ত্রী ও শাশুড়িসহ ৩জনকে অভিযুক্ত করে পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, শাশুড়ি আয়েশা খাতুন ও সম্বন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) মো. হাবিবুর রহমান। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি উপজেলার তালদশী গ্রামে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে উপজেলার কাগারচর গ্রামের মৃত সবজালীর ছেলে মো. বাদল মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় স্বপ্না আক্তারের। তিনি একই উপজেলার তালদশী গ্রামের মৃত হযরত আলীর মেয়ে। বিয়ের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন ভালই চলছিল। কিন্তু স্বামী গরিব হওয়ায় শাশুড়ির কুপরামর্শে স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামীর বাড়িতে উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা শুরু করে। স্বামীর সঙ্গে খারাপ আচরণসহ তার ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। এরমধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হয় স্বপ্না আক্তার। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর শাশুড়ি আয়েশা খাতুন কৌশলে স্বপ্নাকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গত ৪ নভেম্বর স্বপ্নার ৯ মাসের গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করা হয়।
বাদল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সপ্না অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আমি তাকে নিয়ে মনোহরদীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে যাই। সেখানে তাকে আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করাই। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেছেন গর্ভের সন্তানের অবস্থা খুবই ভালো। ডিসেম্বরের ২০ তারিখ স্বপ্নার সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ডাক্তার আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে স্বপ্নার গর্ভে সন্তান নেই। আমি জানতে পেরেছি আমার শাশুড়ি এ গর্ভের সন্তান নষ্ট করিয়েছে। শশুড়বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমার সম্বন্ধী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে সম্বন্ধী(স্ত্রীর বড় ভাই) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বাদলের অভিযোগ সঠিক নয়। মনোহরদী হাসপাতালে স্বপ্নার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছিল। এখন সে আমাদের ওপর সন্তান হত্যার দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. মোবারক হোসেন বলেন, যেহেতু উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে, তাই সরেজমিন তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে




